জুমবাংলা ডেস্ক : ছাগলকাণ্ডে বহুল সমালোচিত মতিউর রহমান একজন সরকারি কর্মকর্তা হলেও দেশের শেয়ারবাজারে তিনি একজন ‘ডন’। বাজার থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন মতিউর। এটি তিনি করতেন দুই কায়দায়। একটি হলো প্লেসমেন্ট বাণিজ্য এবং অপরটি কারসাজির আগাম তথ্য জেনে দুর্বল কোম্পানির শেয়ার কিনে বেশি দামে বিক্রি।

মতিউর রহমান

Advertisement

মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের ১২টি বিও অ্যাকাউন্ট থেকে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বড় কর্তা হলেও ২০০৮ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে শেয়ারবাজারে জড়িত ছিলেন মতিউর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুসারে এ ধরনের কাজ বেআইনি এবং অনৈতিক। তাদের মতে, একই সঙ্গে তিনি কয়েকটি অপরাধ করেছেন। প্রথমত, তিনি সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। দ্বিতীয়ত, বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধ করেছেন। তৃতীয়ত, তিনি সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন করেছেন। চতুর্থত, তিনি শেয়ার লেনদেন করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। তবে ইতোমধ্যে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে এনবিআর। সোনালী ব্যাংকের পর্ষদ থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বলছে, মতিউরের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা বড় পদে থেকে এ ধরনের প্লেসমেন্ট বাণিজ্য করতে পারেন না। এছাড়া তার এভাবে শেয়ার লেনদেনও অন্যায়। তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম অনৈতিক এবং বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে আখাউড়া বন্দর দিয়ে তিনি বিদেশে পালিয়েছেন। তথ্য অনুসারে তার পাসপোর্ট নম্বর ই০০০১১৬৫২। তবে পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশে যাওয়ার তথ্য মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে তিনি অন্য কোনো পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন।

এনবিআরের সদস্য মতিউর রহমান কাস্টসম এক্সসাইজ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। এনবিআরের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ। চাকরির শুরুতে তিনি ট্রেড ক্যাডারে যোগদান করেন। এরপর নানা তদবিরে এসেছিলেন কাস্টমস ক্যাডারে। স্বল্প সময়ের জন্য পোস্টিং ম্যানেজ করেছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু অর্থের মোহে অন্ধ হয়ে যাওয়া এই কর্মকর্তার মূল পরিচয় হয়ে ওঠে শেয়ার ব্যবসায়ী হিসাবে। ২০০৮ সাল থেকে শুরু করেন শেয়ার ব্যবসা। অল্পদিনেই পুঁজিবাজারে পরিচিতি পান ‘ম্যারাডোনা’ হিসাবে। দুর্বল কোম্পানির শেয়ার কম দামে কিনে কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে দেন। লুটে নেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। এক সময় তার মূল ব্যবসাই হয়ে ওঠে প্লেসমেন্ট বাণিজ্য। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজেও একটি ট্রেক হাউজের অনুমোদন পান।

মতিউরকে ধরলো একটা ছাগল: সুমন

জানা গেছে, সেকেন্ডারি মার্কেটেও দুর্বল কোম্পানির শেয়ার কারসাজিতে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেন তিনি। যেমন কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়াতে হলে ওই কোম্পানির আয় ও সম্পদ বৃদ্ধি জরুরি। এক্ষেত্রে বেশ কিছু কোম্পানি কৃত্রিমভাবে আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছেন। এসব কোম্পানির মধ্যে অন্যতম হলো-এমারেল্ড অয়েল, ফরচুন সুজ, সিএনএ টেক্সটাইল অন্যতম। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো ভুয়া আয় দেখাতে চাইলেও আয়ের বিপরীতে সরকারকে ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়েছে এ ধরনের সনদ জরুরি। এনবিআরের এই সনদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানিতে সহায়তা করেছেন মতিউর।-যুগান্তর

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Tarek Hasan is a professional journalist and currently works as a sub-editor at Zoom Bangla News. With six years of experience in journalism, he is an experienced writer with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial quality. His work contributes to delivering reliable and engaging news content to digital audiences.