ধর্ম ডেস্ক : অবশেষে কি পাওয়া গেলো নুহ (আ.) এর নৌকা? তুরস্কের আরারাত পর্বতে পাওয়া গেছে নৌকা সদৃশ এক বস্তু, ধারণা করা হচ্ছে এটাই নূহ (আ.)-এর নৌকা যা মহাপ্লাবণ থেকে বাঁচিয়েছিলো বিশ্বাসীদেরকে।

nowka

Advertisement

নূহ (আ.) আল্লাহর প্রেরিত একজন নবী এবং ইসলামের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ। ধারণা করা হয়, আজ থেকে প্রায় ৫৫০০ বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৯৫০ বছর একাধারে মানুষকে আল্লাহর পথে ডেকেছিলেন। তবে খুব অল্প কিছু লোক ঈমান আনে, এমনকি তার নিজের এক ছেলেও হয় অবিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত।

অবশেষে মহান আল্লাহ মহাপ্লাবণ বা মহাবন্যা দিয়ে ধ্বংস করে দিলেন সে জাতিকে। যে বন্যার স্থায়ীত্বকাল ছিলো ৪০ দিন। তবে এই বন্যা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ নূহ (আ.) কে একটা নৌকা তৈরির নির্দেশ দিলেন, যাতে জোড়ায় জোড়ায় সব প্রাণিদের উঠানো হলো বিশ্বাসীদের সাথে। ৪০ দিন পর যখন পানি নামতে শুরু করলো তখন সেই নৌকা থামলো এক পর্বতে গিয়ে। কথিত আছে, সে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছিলো প্রায় পুরো পৃথিবী।

১৯৫৯ সালে তুর্কি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেইন ইলহান দুরপিনার একটি ফ্লাইং মিশন করার সময় আরারাত পর্বতের কয়েক মাইল দক্ষিণে অদ্ভুদ একধরণের আকৃতি দেখলেন। তাৎক্ষণিক তিনি কিছু ছবি তুলে নিলেন। সে ছবি ডেভেলপ করে দেখা গেলো বিশাল এক জাহাজের ফসিল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, যেখানে এই বস্তুটি দেখা গেলো তা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৫০০ ফুট উচুতে। সমুদ্র থেকে এতো উঁচুতে জাহাজ কিভাবে উঠলো তা নিয়ে তৈরি হয় জল্পনা!

এই ছবিগুলো তখন সৃষ্টি করলো বেশ আলোড়। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী ও মুসলিমদের মাঝে গুঞ্জন যে হয়ত পাওয়া গেছে নূহ (আ.) এর নৌকা। শুরু হলো গবেষণা। গবেষকরা এই ঘটনার প্রমাণের জন্য দুটি খুঁটি ঠিক করলেন। এক হচ্ছে সেই জাহাজ বা নৌকা আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সেই বিশাল বন্যা বা প্লাবণের প্রমাণ।

বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
১৯৯৭ সালে ভূতত্ববিদ আর সমুদ্র বিজ্ঞানীদের একটা দল কৃষ্ণসাগরের কাছে মিঠা পানির জলজ প্রাণিদের জীবাশ্ম খুঁজে পান। তখন ধারণা করা হয় যে হয়তো কৃষ্ণ সাগর একসময় মিঠা পানির লেক ছিলো, কিন্তু হঠাতই তা নোনা পানিতে রূপ নেয়। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, হয়তো সে সময় সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা হঠাতই অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিলো এবং তা কৃষ্ণসাগর সহ আশেপাশের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত করেছিলো।

১৯৮৫ সালের আরও একটা আবিষ্কার নূহ (আ.) এর নৌকার বিতর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৪০০০ বছর আগের একটি মাটির ছোট্ট প্রস্তর আবিষ্কার হয়। যাতে প্রাচীন ভাষায় কিছু একটা লেখা ছিলো। বহু বছরের গবেষণার পর অনুবাদ করা গেলো সে প্রস্তর। তা ছিলো গিলগামিশের মহাকাব্য।

প্রাচীন মেসোপটেমিয়ান এই মহাকাব্যে এক মহাপ্লাবণের কথা বলা আছে, যা সৃষ্টিকর্তা পাপীদের শাস্তি হিসেবে দিয়েছিলেন। তাতে আরও বলা আছে যে, উটনাপিশটিম নামের একজন নশ্বর মানুষ একটি নৌকা তৈরি করে জোড়ায় জোড়ায় সব প্রাণিদের সেই নৌকায় তোলেন প্লাবণ থেকে বাঁচাতে। পানি নেমে গেলে সেই নৌকাটি ‘নিমুশ’ পর্বতে এসে থামে। আর এই গিলগেমেশের মহাকাব্য লেখা হয়েছিলো কোরআন নাজিলেরও কয়েক হাজার বছর আগে। অর্থাৎ পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতায় একদম একই রকম একটা মহা প্লাবণ আর একটা বিশাল নৌকার কথা উল্লেখ আছে। তবে কী এই সব গবেষণা কোরআনে বর্ণিত নূহ (আ.) এর ঘটনাকে সত্য প্রমাণ করে?

আগামীকাল ভরদুপুরে রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসবে

যদিও বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত করেননি যে তুরষ্কে আবিষ্কৃত নৌকাসদৃশ এই বস্তুই কোরআনে বর্ণিত হযরত নূহ (আ.) এর নৌকা। তবে এ নিয়ে এখনও বিস্তর গবেষণা চলছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.