আসুন, আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি—তিনি আমাদেরকে এক মহিমান্বিত, বরকতময় ও কল্যাণময় মাস দান করেছেন। এই নিয়ামত নিঃসন্দেহে তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ। অতএব আমাদের কর্তব্য হলো একান্ত ইখলাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রামাদানের ফরজ ও ওয়াজিব আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করা।

রামাদান

Advertisement

রামাদানের মূল শিক্ষাই হলো তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধি। তাই আমাদের উচিত—
১) দৃঢ় ঈমান ও সওয়াবের আশায় সিয়াম পালন করা।
২) রাতের ইবাদত, বিশেষ করে কিয়ামুল লাইল ও তারাবি আদায় করা।
৩) শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা এবং সামর্থ্য থাকলে ইতেকাফ করা।
৪) সাধ্য অনুযায়ী দান-সাদকা করা।
৫) কোরআন তিলাওয়াত, উত্তম চরিত্র ও সৎকর্মের মাধ্যমে আমলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা।

রামাদান কোরআন নাজিলের মাস। এই মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয় (সূরা বাকারা ১৮৩-১৮৫)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয় (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। এই মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। আর ঘোষণা দেওয়া হয়— “হে কল্যাণপ্রার্থী! অগ্রসর হও; হে অকল্যাণকামী! বিরত হও।” (বুখারি ১৮৯৯, মুসলিম ১০৭৯)

রামাদানের শেষ দশকের মধ্যে রয়েছে লাইলাতুল কদর, যার ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম (সূরা কদর ১-৩)। রোজা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকবচ (বুখারি ১৮৯৪)। এ মাসে ফরজ ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং নফল ইবাদত ফরজের সমান মর্যাদা লাভ করে। উপরন্তু, রোজাদারের প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে প্রদান করবেন (বুখারি ১৯০৪)।

তাই রামাদানের আগমনে আমাদের আনন্দিত হওয়া উচিত এবং একে গনিমত মনে করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে—গত বছর যারা আমাদের মাঝে ছিলেন, তাদের কেউ কেউ আজ আর নেই। তাদের আমলের সুযোগ শেষ হয়ে গেছে। তারা এখন এমন জগতে অবস্থান করছেন, যেখানে আমল ছাড়া কোনো সঙ্গী নেই। সুতরাং আমরা যারা এ বছর রামাদান পেয়েছি, তাদের উচিত সময়ের যথাযথ ব্যবহার করা এবং আল্লাহর আনুগত্যে আত্মনিয়োগ করা।

আমাদের প্রার্থনা—আল্লাহ যেন আমাদের সেই সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করেন, যারা ঈমানের সঙ্গে সিয়াম ও কিয়াম আদায় করে এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করে। আমাদের আমলগুলো যেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পন্ন হয়।

এই মূল্যবান মাসে সময় অপচয় থেকে বিরত থাকা জরুরি। বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় ছবি তোলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট না করে ইবাদত, জ্ঞানার্জন ও আত্মশুদ্ধিতে মনোনিবেশ করা উচিত। আমাদের এমন কাজে সময় ব্যয় করা দরকার, যা দুনিয়া ও আখিরাতে উপকার বয়ে আনে।

আসুন, আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি—তিনি যেন আমাদের সৎ আমল কবুল করেন, এ মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করেন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। তিনি যেন আমাদের ও আমাদের পিতা-মাতাকে ক্ষমা করেন এবং যারা গত বছর রামাদান পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন কিন্তু এ বছর আর পাননি, তাদেরও মাগফিরাত দান করেন।

রামাদান একটি বিরাট নিয়ামত। তাই এ মাসে আমাদের দুআ বাড়ানো উচিত—নিজেদের জন্য, পরিবারের জন্য, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও কল্যাণের জন্য, দেশের শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের উন্নতির জন্য।

অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বনেতা, আল্লাহর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবার ও সাহাবায়ে কেরামের ওপর।

হে আল্লাহ! আমাদের সবাইকে এই মহান মাসের সব ফজিলত অর্জনের তৌফিক দিন এবং একমাত্র আপনার সন্তুষ্টির জন্য নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার সামর্থ্য দান করুন। আমিন।

লেখক : সৈয়দ নজরুল ইসলাম

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.