মুফতি জাকারিয়া হারুন বিতর নামাজ পড়া ওয়াজিব। বিতর আরবি ‘আল-বিতরু’ শব্দ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ বিজোড়। বিতর নামাজ যেহেতু তিন রাকাত বিজোড় সংখ্যার, তাই তাকে বিতর নামাজ বলা হয়। হাদিসসমূহের বর্ণনাভেদে বিতর নামাজ তিন বা এক রাকাত। হাদিস শরিফে বিতর নামাজের রাকাত ও ধরন নিয়ে বর্ণনার বৈচিত্র্য রয়েছে। হানাফি মাজহাব মোতাবেক বিতর নামাজ তিন রাকাত।

Advertisement

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের নামাজ তিন রাকাত আদায় করতেন। (সুনান দারু কুতনি ১৬৫৯, বাদাইয়েউস সানায়ি ১/২৭২)

বিতর নামাজের সময় হলো এশার নামাজের পর থেকে ফজরের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো সময়। বিতর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।

বিতর নামাজ তিন রাকাত। অন্য ফরজ নামাজের মতো দুই রাকাত নামাজ পড়ে প্রথম বৈঠকে বসে তাশাহহুদ পড়বে।

কিন্তু সালাম ফেরাবে না। তারপর তৃতীয় রাকাত পড়ার জন্য উঠে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য কোনো সুরা বা আয়াত মিলাবে। কেরাত (সুরা বা অন্য আয়াত মিলানোর পর) শেষ করার পর তাকবির বলে দুহাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে তাকবিরে তাহরিমার মতো হাত বাঁধবে। তারপর নিঃশব্দে দোয়া কুনুত পড়বে।

দোয়া কুনুত পড়ে আগের মতো রুকু, সিজদার পর শেষ তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে বিতরের নামাজ শেষ করবে।

বিতরের নামাজের এ পদ্ধতি হাদিস থেকে প্রমাণিত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত তাহাজ্জুদের পর বিতর নামাজ পড়তেন এবং তিন রাকাত পড়তেন। তিন রাকাতের দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহহুদের জন্য বসতেন, কিন্তু সালাম ফেরাতেন না। সালাম ফেরাতেন সবশেষে তৃতীয় রাকাতে। হজরত আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত আছে, তিনি হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, রমজানে নবীজির নামাজ কেমন হতো? জবাবে তিনি বলেন, ‘নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে এবং রমজানের বাইরে ১১ রাকাতের বেশি পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না! এরপর আরো চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা তো বলাই বাহুল্য! এরপর তিন রাকাত (বিতর) পড়তেন। (বুখারি ১১৪৭, মুসলিম ৭৩৮)

সাদ ইবনে হিশাম (রহ.) বলেন, ‘আয়েশা (রা.) তাকে বলেছেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না। (নাসায়ি ১৬৯৮, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৬৯১২)

আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কাইস বলেন, ‘আমি আয়েশা (রা.)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম যে নবীজি (সা.) বিতর নামাজে কত রাকাত পড়তেন? জবাবে তিনি বলেন, চার এবং তিন, ছয় এবং তিন, আট এবং তিন, ১০ এবং তিন। তিনি বিতর নামাজে সাত রাকাতের কম এবং ১৩ রাকাতের বেশি পড়তেন না। (সুনানে আবু দাউদ ১/১৯৩, হাদিস ১৩৫৭ (১৩৬২); তাহাবি শরিফ ১/১৩৯; মুসনাদে আহমদ ৬/১৪৯, হাদিস : ২৫১৫৯)

এখানেও দেখুন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদ নামাজ কখনো চার রাকাত, কখনো ছয় রাকাত, কখনো আট রাকাত, কখনো ১০ রাকাত পড়তেন; কিন্তু মূল বিতর সর্বদা তিন রাকাতই হতো।

ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ‘ফাতহুল বারি’তে ৩/২৬-এ লেখেন, আমার জানামতে এটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সর্বাধিক বিশুদ্ধ বর্ণনা। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে যে বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় এর দ্বারা সেসবের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব। (ফাতহুল বারি : ৩/২৬)

যার শেষ রাতে তাহাজ্জুদের জন্য জাগ্রত হওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে, সে তাহাজ্জুদের পরে বিতর পড়বে। যদি বিতর রাতের শুরু ভাগে এশার পর পড়া হয়, তবু উত্তম এই যে দুই-চার রাকাত নফল নামাজ পড়ার পর বিতর নামাজ আদায় করবে। মাগরিবের মতো আগে কোনো নফল ছাড়া শুধু তিন রাকাত বিতর পড়া পছন্দনীয় নয়। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘তোমরা শুধু তিন রাকাত বিতর পড়ো না, এতে মাগরিবের সাদৃশ্যপূর্ণ করে ফেলবে; বরং পাঁচ, সাত, নয়, ১১ বা এরও বেশি রাকাতে বিতর পড়ো। (মুস্তাদরাকে হাকেম ১/৩০৪, হাদিস ১১৭৮; সুনানে কুবরা বাইহাকি ৩/৩১, ৩২)

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.