মানবকল্যাণ ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় মানুষের তৈরি আইন যথেষ্ট নয়—এমন মত প্রকাশ করা হয়েছে আলোচ্য বক্তব্যে। এতে বলা হয়েছে, প্রকৃত কল্যাণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে মানুষকে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান, কোরআনের নির্দেশনা এবং নবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণ করতে হয়। সেই আলোকে প্রত্যেক ব্যক্তির আত্মজিজ্ঞাসা করা উচিত—সে কি সত্যিই ন্যায় ও সত্যের পথে আছে, নাকি ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোভ ও প্রবৃত্তির কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছে।

ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এতে মানবতার কল্যাণ, ন্যায়বিচার এবং শান্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনের সুরা নাহলের ৯০ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচার ও আত্মীয়দের অধিকার আদায়ের নির্দেশ দেন এবং অন্যায়, অশ্লীলতা ও সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকতে বলেন। এই নীতির ভিত্তিতে সমাজে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেমন—হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, ঘুষ, সুদ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক ও ন্যায্য বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনের সুরা বাকারার ১৭৯ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কিসাসের বিধান সমাজে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইসলাম কখনো প্রমাণ ছাড়া বিচার বা জনরোষভিত্তিক শাস্তিকে সমর্থন করে না। ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও প্রমাণের ভিত্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুরা মায়েদার ৮ নম্বর আয়াতের আলোকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা না হয়। ন্যায়বিচারই আল্লাহভীতির নিকটবর্তী পথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ইসলাম নারীকে শিক্ষা, সম্পদ, সম্মান ও নিরাপত্তার পূর্ণ অধিকার দিয়েছে। মা হিসেবে ও স্ত্রী হিসেবে নারীর মর্যাদাকে বিশেষভাবে উচ্চস্থানে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারে ভালো আচরণ ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সুদ, ঘুষ ও অবৈধ লেনদেনকে সমাজের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আল্লাহ ব্যবসাকে বৈধ করেছেন এবং সুদকে নিষিদ্ধ করেছেন। একই সঙ্গে ঘুষ গ্রহণ ও প্রদানকে নিন্দনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্যকে ইসলাম সমর্থন করে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় তাকওয়ার ভিত্তিতে, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
সবশেষে বলা হয়েছে, সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা অত্যন্ত জরুরি। ব্যভিচারসহ অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকার নির্দেশনার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
লেখক: মাওলানা আল আমিন সরকার
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



