সুসম্পর্ক বজায় রাখা, পরস্পরের অধিকার আদায় করা এবং অন্যের উপকারে এগিয়ে আসাকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সুসম্পর্ক

Advertisement

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়ার্দ্রতা ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি মানবদেহের ন্যায় যখন তার একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয় তখন তার সমস্ত দেহ ডেকে আনে তাপ ও অনিদ্রা।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৮০)।

কিন্তু বর্তমান যুগের মানুষের চিত্র ভিন্ন। যত দিন যাচ্ছে, মানুষ ততই অন্য রকম হয়ে যাচ্ছে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে দুই ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্কের ফাটল ধরেছে, তারা প্রত্যেকেই নিজের অবস্থান থেকে নিজেকে সঠিক মনে করে।

প্রত্যেকের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, তারা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবে সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। তাদের মধ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও আল্লাহভীতি। ইসলাম এই সমস্যার ভারসাম্যপূর্ণ কিছু সমাধান দিয়েছে।

নিম্নে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো-

ন্যায়ের ওপর অটল থাকা : মানুষ সাধারণত নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকেই সত্য মনে করে। নিজের কষ্ট বড় করে দেখে, কিন্তু অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করে না। যার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে অহংকার, নিজের ভুল অস্বীকার করার প্রবণতা, দ্রুত রাগ করা ও অন্যের অবদানকে ছোট করে দেখা। এসব মানবীয় দুর্বলতা মানুষকে হক বুঝতে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক সময় ন্যায় ও হক বুঝেও এগুলোর কারণে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা সম্ভব হয় না। অথচ কোরআনের নির্দেশ হলো নিজের বা নিজের আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে গেলেও ন্যায়ের ওপর অবিচল থাকতে হবে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা ন্যায়ের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর জন্য সাক্ষীরূপে। যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা মা-বাবার অথবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৩৫)।

উত্তম আচরণ করা :

মানুষ সাধারণত তার সঙ্গে হয়ে যাওয়া অবিচার, অপমান কিংবা অবহেলা ভুলতে পারে না। তাই সময় সময় তার সেই চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে গেলে তা সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এই সমস্যার কোরআনি সমাধান হলো, মন্দ আচরণের মোকাবেলা ভালো আচরণ দিয়ে করা।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত করো তা দ্বারা, যা উত্কৃষ্টতর; ফলে তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা রয়েছে সে যেন হয়ে যাবে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু।’ (সুরা : ফসসিলাত, আয়াত : ৩৪)। এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়, সুযোগ পেলেই মন্দ আচরণ করে প্রতিশোধ নয়, উত্তম আচরণই সম্পর্ক পুনর্গঠনের চাবিকাঠি।

সন্দেহ ও গিবত থেকে বিরত থাকা :

বেশির ভাগ সম্পর্কে ফাটল ধরে সন্দেহ ও গিবতের কারণে। শয়তান মানুষের মস্তিষ্কে তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অলীক চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। তার চলমান সংকট ও সমস্যাগুলোর পেছনে তার প্রতিপক্ষের হস্তক্ষেপ থাকার সন্দেহ তৈরি করে। ফলে সেও প্রতিশোধ না নিলেও প্রতিপক্ষের গিবত করে মনের কষ্ট নিবারণের চেষ্টা করে। অথচ অলীক চিন্তা ও অহেতুক সন্দেহ করা নিষিদ্ধ।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো অনুমান তো পাপ।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)।

রাগ নিয়ন্ত্রণ করা :

অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায় অতিরিক্ত রাগের কারণে। অথচ রাগের মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই; বরং বীরত্ব হলো, আত্মনিয়ন্ত্রণের মধ্যে। (বুখারি, হাদিস : ৬১১৪)

কথা বন্ধ না করা :

বেশির ভাগ সম্পর্ক শেষ হয় ভুল-বোঝাবুঝি ও পরস্পর কথা বন্ধ করার কারণে। অথচ বাস্তবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তারা যদি খোলামেলা আলোচনা করত, একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করত, তাহলে তাদের শত্রুতা বন্ধুত্বে রূপ নিত। তারা কেউই কারো খারাপ চায়নি, শুধু দূরত্ব তাদের আলাদা করে রেখেছে।

ইসলাম এভাবে সম্পর্ক ছিন্ন রাখাকে সমর্থন করে না। মানুষ যদি অভিযোগ কমিয়ে সহমর্মিতা বাড়ায়, দোষারোপ না করে দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলেই ভাঙা সম্পর্ক আবার বন্ধুত্বে রূপ নেওয়া সহজ হয়ে যায়।

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.