ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ‘আমি রোবট নই’ লেখা ক্যাপচা প্রায় সবাই দেখেছেন। কখনো ট্রাফিক সিগন্যাল বা বাস চিহ্নিত করতে বলা হয়, আবার কখনো নির্দিষ্ট ছবি নির্বাচন করতে হয়। এতদিন ওয়েবসাইটকে বট ও ভুয়া ট্রাফিক থেকে রক্ষা করতে এই পদ্ধতিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। তবে এবার সেই প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে গুগল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগল একটি নতুন মানব যাচাইকরণ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে, যেখানে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে হতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে ক্যাপচা পরীক্ষার পাশাপাশি স্মার্টফোনও হতে পারে পরিচয় যাচাইয়ের প্রধান মাধ্যম।
নতুন কিউআর যাচাইকরণ ব্যবস্থা কী
এই নতুন পদ্ধতিতে কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে স্ক্রিনে একটি কিউআর কোড দেখা যাবে। ব্যবহারকারীকে নিজের মোবাইল ফোন দিয়ে সেই কোড স্ক্যান করতে হবে। এরপর ফোন থেকে ওয়েবসাইটে একটি ডিজিটাল সংকেত পাঠানো হবে, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে ব্যবহারকারী একজন প্রকৃত মানুষ, কোনো স্বয়ংক্রিয় বট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে প্রচলিত রিক্যাপচা পদ্ধতির বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
কেন পরিবর্তন আনছে গুগল
দীর্ঘদিন ধরে গুগল রিক্যাপচা ব্যবহার করে আসছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির উন্নতির কারণে অনেক বট এখন সহজেই ক্যাপচা পরীক্ষাও পার হয়ে যাচ্ছে।
এই কারণে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ যাচাইকরণ ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ফোন-ভিত্তিক যাচাইকরণে আসল ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট, স্প্যাম এবং বট কার্যক্রম কমানোই মূল লক্ষ্য।
নতুন ফিচার কীভাবে কাজ করবে
রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় ব্যবহারকারীর সামনে একটি কিউআর কোড দেখানো হবে। এরপর—
ব্যবহারকারী মোবাইল দিয়ে কোডটি স্ক্যান করবেন
ফোন ওয়েবসাইটের সঙ্গে নিরাপদভাবে সংযুক্ত হবে
একটি ডিজিটাল পরিচয় যাচাইকরণ সংকেত পাঠানো হবে
এরপর ওয়েবসাইট নিশ্চিত করবে ব্যবহারকারী মানুষ নাকি বট
পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হতে পারে।
গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ
গুগলের এই সম্ভাব্য নতুন ব্যবস্থাকে ঘিরে গোপনীয়তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, প্রতিটি ওয়েবসাইটের সঙ্গে ফোন যুক্ত হলে ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যকলাপ নজরদারির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে গুগল এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইটে সীমিত আকারে চালু করা হতে পারে। সফল হলে এটি ইন্টারনেট ব্যবহারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



