বাড়িতে ইন্টারনেট ধীরগতির সমস্যা এখন অনেকেরই নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। ভিডিও দেখার সময় বারবার বাফারিং হওয়া, অনলাইন ক্লাসে শব্দ কেটে যাওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় নেট স্লো হয়ে যাওয়া বেশ বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। অনেকেই মনে করেন, এর সমাধান কেবল নতুন প্যাকেজ নেওয়া বা বেশি খরচ করাই। কিন্তু বাস্তবে কিছু সহজ পদক্ষেপেই বর্তমান ওয়াই-ফাইয়ের গতি অনেকটা বাড়ানো সম্ভব।

প্রথমেই রাউটারের অবস্থানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। রাউটার যদি ঘরের এক কোণে বা মেঝেতে রাখা থাকে, তাহলে সিগন্যাল ঠিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে না। তাই এটি ঘরের মাঝামাঝি জায়গায় এবং কিছুটা উঁচু স্থানে রাখলে সিগন্যাল সমানভাবে ছড়ায় ও সংযোগ ভালো পাওয়া যায়। পাশাপাশি দেয়াল বা বড় আসবাবপত্র থেকে দূরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাউটারের অ্যান্টেনার অবস্থানও ইন্টারনেট গতিতে প্রভাব ফেলে। একটি অ্যান্টেনা সোজা এবং অন্যটি আড়াআড়িভাবে রাখলে সিগন্যাল বিভিন্ন দিকে ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ঘরের ভেতরে সংযোগ আরও স্থিতিশীল হয়।
বর্তমান রাউটারগুলোতে সাধারণত দুই ধরনের ব্যান্ড থাকে—দুই দশমিক চার গিগাহার্টজ এবং পাঁচ গিগাহার্টজ। কাছাকাছি ব্যবহারের জন্য পাঁচ গিগাহার্টজ ব্যান্ড দ্রুতগতির হলেও দূরের জন্য দুই দশমিক চার গিগাহার্টজ বেশি কার্যকর। প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ব্যান্ড ব্যবহার করলে ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা উন্নত হয়।
অনেক সময় আশেপাশের বাড়ির ওয়াই-ফাই সিগন্যালের কারণে ইন্টারনেট ধীর হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে রাউটারের সেটিংস থেকে চ্যানেল পরিবর্তন করলে সিগন্যালের বাধা কমে এবং গতি বাড়ে।
আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে পাম্পে ফুয়েল কার্ড চেক করার সময় ইউএনও ও বডিগার্ডের ওপর হামলা
রাউটার নিয়মিত পুনরায় চালু করাও একটি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়। সপ্তাহে একবার কিছুক্ষণ বন্ধ রেখে আবার চালু করলে এটি নতুনভাবে কাজ শুরু করে এবং পারফরম্যান্স উন্নত হয়।
এ ছাড়া যেসব ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে না, সেগুলো ওয়াই-ফাই থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা উচিত। কারণ একাধিক ডিভাইস যুক্ত থাকলে গতি ভাগ হয়ে যায়, ফলে ইন্টারনেট ধীর মনে হয়।
রাউটারের সফটওয়্যার বা অভ্যন্তরীণ প্রোগ্রাম হালনাগাদ থাকলে সেটিও নিয়মিত করা প্রয়োজন। এতে পারফরম্যান্স উন্নত হওয়ার পাশাপাশি নতুন সুবিধাও যুক্ত হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাউটারের কাছাকাছি মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা ব্লুটুথ ডিভাইস রাখা উচিত নয়, কারণ এগুলো ওয়াই-ফাই সিগন্যালের বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


