ঈদের ছুটির মধ্যে সব এটিএম বুথে টাকা মিলছে না; কিছু বুথে টাকা পাওয়া গেলেও আবার অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে তোলা যাচ্ছে না।

ফলে ঈদের কেনাকাটা সারতে টাকা তুলতে এক বুথ থেকে আরেক বুথে ছুটছেন গ্রাহকরা। টাকা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর আগে কোনো ঈদের ছুটিতে এমন ভোগান্তিতে পড়েননি তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি এলাকার এটিএম বুথ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের বন্ধে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকাসহ নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে সব ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২১ মে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে এবি ব্যাংকের এটিএম বুথে ঢুকতে গেলে পাশেই পান-সিগারেট বিক্রেতা বলেন, “ঢুকে লাভ নেই, টাকা নেই।”
ওই সময় বুথে কোনো নিরাপত্তাকর্মীকেও দেখা যায়নি। এ এলাকায় উত্তরা ব্যাংকের এটিএম বুথটিও বন্ধ দেখা যায়।
শেওড়াপাড়া থেকে মিরপুর-১০ নম্বরের দিকে এগোলে রাস্তার বাম পাশে সিটি ব্যাংকের বুথ থেকে ওই ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা তোলা গেলেও অন্য কোনো ব্যাংকের কোনো কার্ড কাজ করছিল না।
সেখানে বদিউজ্জামান নামে একজন অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা তুলতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাদ্যমকে বলেন, “অন্য সময় তো তুলতে পারতাম, এখন কেন পারলাম না বুঝলাম না।”
অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে কেন টাকা তোলা যাচ্ছে না—এ প্রশ্নের জবাবে নিরাপত্তাকর্মী নূরুজ্জামান বলেন, “টাকা কম আসছে। সে কারণে নিজের (সিটি ব্যাংকের) গ্রাহকরাই শুধু তুলতে পারছেন।”
ওই এলাকায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাক বুথ রয়েছে, যেখানে আছে চারটি এটিএম। এর মধ্যে শুধু একটি থেকে টাকা তোলা যাচ্ছে। আর অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে ৫ হাজার টাকার বেশি তোলা যাচ্ছে না।
শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাক বুথে সাতটি এটিএম থাকলেও কেবল তিনটি থেকে টাকা তোলা যাচ্ছে। অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে ৫ হাজার টাকার বেশি তোলা যাচ্ছে না।
কাজীপাড়ায় ইবিএলের (ইষ্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড) বুথ থেকে এ ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারছেন। তবে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে ৫ হাজার টাকার বেশি তোলা যাচ্ছে না।
আগারগাঁও আইডিবি ভবনের পাশে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথে কোনো টাকা নেই। সেখান থেকে গ্রাহকরা ফিরে যাচ্ছেন। এক সপ্তাহ ধরে এই বুথে সকালের দিকে টাকা পাওয়া গেলেও বিকাল, সন্ধ্যা কিংবা রাতে পাওয়া যাচ্ছে না।
এই বুথের নিরাপত্তাকর্মী সুমন খলিফা বলেন, “সকালে যে টাকা দিয়ে গেছে, তা শেষ হয়ে গেছে। এখন কোনো গ্রাহক টাকা জমা দিলেই কেবল অন্য গ্রাহক তুলতে পারবেন।”
পাশে ব্র্যাক ব্যাংকের বুথ থেকে অবশ্য টাকা তোলা যাচ্ছে। অন্য ব্যাংকের যাদের ভিসা কার্ড আছে তারাও এ বুথ থেকে টাকা তুলতে পারছেন।
শাহীন কলেজের গেইটে ইউসিবিএলের বুথ থেকে নিজ ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারলেও অন্য ব্যাংকের গ্রাহকরা পারছেন না।
মহাখালী বন ভবনের পাশে ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি, ইবিএল ও ইউসিবিএলের বুথ রয়েছে। এই চার বুথেই নিজ ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারছেন। তবে অন্য ব্যাংকের কার্ডধারীদের জন্য নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকরা ৩ হাজার টাকার বেশি তুলতে পারছেন না। ইবিএল থেকে ৫ হাজার টাকা তুলতে পারছেন। এনসিসি ও ইউসিবি থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা পাচ্ছেন না।
ইবিএলের এক নিরাপত্তাকর্মী আতিয়ার রহমান বলেন, “টাকা কম দিচ্ছে। সে কারণে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে কম টাকা তোলা যাচ্ছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিদের্শের পরও বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা পাওয়া যাচ্ছে না কেন, এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের মোবাইল নম্বরে গণমাধ্যম থেকে ফোন করলে তিনি ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ছাপানো টাকার চাহিদা বেশি হয় কোরবানির ঈদের আগে। এ সময় পশু কেনাসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে মানুষ ব্যাংকগুলোতে ভিড় করেন। ব্যাংকগুলোও তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত হিসাবের বিপরীতে বেশি টাকা উত্তোলন করে। যে কারণে প্রতিবছর ঈদ ঘিরে বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বেড়ে যায়। দীর্ঘ লাইন বা ঝামেলা এড়াতে টাকা তোলার জন্য এখন সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গায় হয়ে উঠেছে এটিএম বুথ।
তবে শনিবার থেকেই অনেক বুথে গিয়ে টাকা না পাওয়ার খবর মিলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনিয়ম-জালিয়াতির কারণে অনেক ব্যাংক ঠিকমতো জমানো টাকা দিতে পারছে না। এ ধরনের ব্যাংকের এটিএম বুথ প্রায় অকেজো। যে কারণে ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা অন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল।
তবে ঈদের আগে বেশিরভাগ ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কার্ড থেকে টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ বা সীমিত করে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, “ঈদের আগে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে সার্কুলার দিয়ে সব এটিএম বুথের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
“এরপরও অনেক ব্যাংকের বুথে টাকা না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। এমনটা হওয়ার কথা নয়।”
তিনি বলেন, “সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েই ব্যাংকগুলো এটিএম বুথের অনুমোদন নিয়েছে। কেন এরকম হল, ঈদের পরে তাদের সঙ্গে বসা হবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংক ২১ মে এক নির্দেশনার মাধ্যমে এটিএম বুথ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, পয়েন্ট অব সেলস (পস), কিউআর কোড ও অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়েতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কোথাও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত তা সমাধানের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
প্রতিবছর একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও বন্ধের মধ্যে বিড়ম্বনার খবর পাওয়া যায়। এবার ঈদের বন্ধ শুরুর আগে থেকেই অনেক বুথে টাকা না পাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



