
তিনি হলেন ইকবাল হোসেন ওরফে দাউদ। জন্মসুত্রে তিনি ঢাকার বাসিন্দা হলেও বিয়ে করেছেন আদিতমারীতে। বর্তমানে তার বাড়ী লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা সদরের ড. শাফিয়া খাতুন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) আদিতমারী উপজেলা শাখার কোষাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। তার রাজনীতি বিএনপি হলেও আওয়ামীলীগের সাথে রয়েছে সখ্যতা। আর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় ঠিকাদারী জগতে একক আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন।
জানা গেছে, ইকবাল হোসেন ওরফে দাউদ আদিতমারী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নৈ’শপ্রহরী থাকাকালীন সময়ে বন্যা এন্টারপ্রাইজের নামে ঠিকাদারী জগতে পা রাখেন। পরে অবশ্য ঠিকাদারী ব্যবসায় লাভবান হওয়ায় স্বেচ্ছায় চাকুরী থেকে অব্যাহতি নেন। তার নিয়ন্ত্রণে উপজেলায় প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার কাজ চলমান। তবে অধিকাংশ কাজই চলছে অন্যের লাইসেন্স দিয়ে। তাও আবার ১৫ থেকে ২০ পারসেন্ট কমিশনে নেয়া কাজ।
এদিকে ইকবাল হোসেন দাউদ সকল কাজে অফিসকে সন্তুষ্ট রেখে দিব্যি চালিয়ে আসছেন। কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসী প্রশ্ন তুললেও কোন কর্ণপাত করেন না সংশ্লিষ্ট কাজের তদারকি কর্মকর্তারা। শুধু তাই নয়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বুড়িরবাজার থেকে মহিষখোচা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কাজটি শেষ না হলেও তিনি ক্ষমতার দাফট দেখিয়ে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পুরো বিল উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর কাজ শেষ না হতেই রাস্তাটির বেহাল দশা নিয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি তার। আর অসমাপ্ত কাজ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারন পথচারী।
তিনি একজন চৌকুস কৌশলী ঠিকাদার। নিজের লাইসেন্সে কাজ না করে রংপুরের এক ঠিকাদারের লাইসেন্সে কাজ করছেন। আবার আদিতমারীর এক ঠিকাদারের লাইসেন্সেও কাজ চলমান। শুধু কি তাই! শুনলে অবাক হওয়ার কথা। কোন ঠিকাদার আদিতমারীতে ব্রীজ কিংবা রাস্তার কাজ পেলেই তার লোকজন কাজটি বাগিয়ে নেয়ার জন্য জো’র চেষ্টা চালান। এমনকি শীর্ষ নেতাদের মাধ্যমে অধিক মুনাফা দিয়ে কাজটি ক্রয় করেন। অধিক কমিশন দিয়ে কাজ নেয়ার পরেও তিনি সেখান থেকে লাভবান হতেন। তিনি মোটা অংকের টাকা দিয়ে তদারকি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতেন। এভাবেই তিনি জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। বর্তমানে তার আদিতমারী রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রড ও সিমেন্ট দোকান রয়েছে। সেখানে রয়েছ তার বসার চেম্বার। এ চেম্বারে অধিকাংশ সময় দেখা মিলে উপজেলা প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আমিনুর রহমানের।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার এ প্রতিনিধিকে বলেন, কি আর বলব ভাই! ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আদিতমারীতে ৭টি গার্ডার ব্রীজের ৪টিই তিনি কিনে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যেখানে একটি ব্রীজ আমরা ৪ লক্ষ টাকা বলেছি আর সেখানে তিনি ৬ লক্ষ টাকায় কিনেছেন। তার অত্যাচার এ ব্যবসা থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে তার মত অনেককে। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন রেখে বলেন, এত টাকা দিয়ে কাজ নিয়ে তিনি সিডিউল ও ডিজাইন মোতাবেক কি কাজ করবেন? তিনি ম্যানেজ করেন তদারকি কর্মকর্তাদের।
উপজেলা ছাত্রলীগের একজন নেতা বলেন, তিনি বিএনপির নেতা হলেও তার দাপটে কাজ করা দুরুহ হয়ে পরেছে। তিনি দাবী করে বলেন, তার চলতে এখন একাধিক বডি গার্ড রয়েছে। এসব বডি গার্ডের অধিকাংশ সরকারদলীয় নেতাকর্মী।
সুত্র- লালমনিরহাট বার্তা
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



